উচ্চশিক্ষার জন্য একসময় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। সাশ্রয়ী টিউশন ফি, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পড়াশোনা শেষে কাজের বিস্তৃত সুযোগ—এই তিন কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কানাডাকেই বেছে নিচ্ছেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ কানাডার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার, যা একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩০ জন শিক্ষার্থীর চেয়ে deutlich বেশি।

শিক্ষার্থীদের এই পছন্দের বদলের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো দুই দেশের শিক্ষা ব্যয়ের বিশাল পার্থক্য। কানাডার হুরন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও উপাচার্য ব্যারি ক্রেইগের মতে, কানাডায় টিউশন ফি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম। তিনি জানান, সমমানের আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের তুলনায় হুরন ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়ার খরচ প্রায় অর্ধেক। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রশাসনিক বা খেলাধুলার মতো খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে সরাসরি শিক্ষার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ করে।

শুধু কম খরচই নয়, কানাডার শিক্ষার্থীবান্ধব অভিবাসন নীতিও শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। দেশটিতে পড়াশোনা শেষে তিন বছরের পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা স্নাতকদের চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে এবং অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে। উপাচার্য ব্যারি ক্রেইগ জানান, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের शतভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময়ই বেতনসহ ইন্টার্নশিপের সুযোগ পায় এবং স্নাতকের ছয় মাসের মধ্যে ৯২ শতাংশের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়।

নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশও শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বন্দুক-সহিংসতার ঘটনা না থাকা এবং তুলনামূলকভাবে কম অপরাধের হার কানাডাকে একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। ব্যারি ক্রেইগ বলেন, “অভিভাবকেরা জানতে চান তাদের সন্তান নিরাপদ থাকবে কি না। কানাডা সেই নিশ্চয়তা দেয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও শিক্ষার্থীদের আগ্রহে তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়েনি। সাময়িক কমার পর চলতি বছর আবেদনকারীর সংখ্যা আবার বেড়েছে। উপাচার্য ব্যারির তথ্যমতে, গত দুই বছরের তুলনায় এই শরতের সেশনের জন্য তারা প্রায় তিন গুণ বেশি আবেদন পেয়েছেন, যা কানাডার প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন।

Share.
Exit mobile version