গাজায় প্রথমবারের মতো সামরিক বিমান থেকে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে কানাডা। প্রায় ২২ মাস ধরে চলা সংঘাতে মানবিক সংকটে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য এই ত্রাণ সরবরাহের পাশাপাশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে দেশটি।
সোমবার কানাডার সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ‘গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা’র সহযোগিতায় একটি সিসি-১৩০জে হারকিউলিস বিমান ব্যবহার করে ২১,৬০০ পাউন্ড ত্রাণ সরবরাহ করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (সিবিসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার সামরিক বাহিনীর নিজস্ব বিমান থেকে গাজায় ত্রাণ পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম।
একই দিনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কানাডা ছাড়াও জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, জার্মানি ও বেলজিয়াম মোট ১২০টি খাদ্য সহায়তার প্যাকেট আকাশ থেকে ফেলেছে।
ত্রাণ সরবরাহের পাশাপাশি কানাডা বলেছে, ইসরায়েলি প্রতিবন্ধকতার কারণে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোর পক্ষে গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অটোয়ার মতে, ত্রাণকাজে বাধা সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
এই অভিযোগের বিষয়ে অটোয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং গাজার মানবিক সংকটের জন্য হামাসকে দায়ী করে থাকে।
উল্লেখ্য, গত মার্চে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিলেও পরে মে মাসে বিশ্বনেতাদের সমালোচনার মুখে সেই নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে উপত্যকাটিতে এখনো কিছু বিধিনিষেধ জারি রেখেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

