আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য কানাডায় ভিসার নিয়মকানুন কঠোর করা হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালে দেশটিতে শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে ৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছর এই হার ছিল ৫২ শতাংশ। মূলত আবাসন সংকট, অবকাঠামোগত চাপ এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার মতো অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের কারণে কানাডা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

দেশটির ইমিগ্রেশন, রিফিউজি ও সিটিজেনশিপ কানাডার (আইআরসিসি) প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুসারে, এই নীতি পরিবর্তনের প্রভাব এশিয়া ও আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে। বর্ডারপাস প্ল্যাটফর্মের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোনাথান শেরম্যানের মতে, আইআরসিসি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতার সাথে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করছে।

এরই অংশ হিসেবে কানাডা সরকার বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করেছে। চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্টাডি পারমিটের আবেদনের জন্য জীবনযাত্রার খরচ বাবদ একজন শিক্ষার্থীকে ২২,৮৯৫ কানাডিয়ান ডলার দেখানোর বিধান করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২০,৬৩৫ ডলার। এই অর্থ টিউশন ফি এবং ভ্রমণ খরচের বাইরে ব্যাংকে জমা থাকতে হবে।

শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালে ইস্যু করা স্টাডি পারমিটের সংখ্যাও সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এ বছর মোট ৪ লাখ ৩৭ হাজার পারমিট দেওয়া হবে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম।

শিক্ষাজীবন শেষে কানাডায় কাজের অনুমতি বা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের (পিজিডব্লিউপি) ক্ষেত্রেও নিয়মকানুন আরও কঠিন করা হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে বি-টু স্তর এবং কলেজ স্নাতকদের বি-ওয়ান স্তর অর্জন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কানাডায় ১০ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ ছিলেন ভারতীয় এবং ১২ শতাংশ চীনা। নতুন এই কঠোর নীতির কারণে শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক টিউশন ফির ওপর নির্ভরশীল কানাডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

Share.
Exit mobile version