বিশ্বমানের শিক্ষা, বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ থাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে কানাডা অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে ২০২৫ সালে দেশটিতে পড়াশোনার পরিকল্পনা থাকলে ভর্তি ও ভিসা আবেদনের আগেই এর টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় শর্তগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া আবশ্যক।

অন্যান্য দেশের তুলনায় কানাডায় পড়াশোনার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তা একটি বড় বিবেচনার বিষয়। উদাহরণস্বরূপ, ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি যেখানে ৫,১৩০ কানাডীয় ডলার থেকে শুরু, সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তা শুরু হয় ৩৫,২০৭ কানাডীয় ডলার থেকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার অন্যান্য ব্যয়। একজন শিক্ষার্থীর বাৎসরিক থাকা-খাওয়ার খরচ যথাক্রমে প্রায় ৭,৭৯৬.০২ ও ৪,০৪৩.৮৬ কানাডীয় ডলার। এছাড়া যাতায়াত ও ইউটিলিটি বিল বাবদ বছরে আরও প্রায় ২,৮৫৬.৮৫ কানাডীয় ডলার প্রয়োজন হতে পারে। (১ কানাডীয় ডলার = ৮৮ বাংলাদেশি টাকা)।

আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি কানাডায় পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই দেশটির সরকার অনুমোদিত কোনো ডিজাইনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশন (ডিএলআই) থেকে ভর্তির অফার লেটার পেতে হবে। ভিসার আবেদনের সময় টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ এবং দেশে ফেরার জন্য যাতায়াত ব্যয় বহনের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে, পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থী নিজ দেশে ফিরে আসবে কি না, তা নিশ্চিত হতে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা সাক্ষাৎকারের জন্যও ডাকতে পারেন।

পড়াশোনা শেষে কানাডায় কাজের সুযোগ দেশটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের (পিজিডব্লিউপি) জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই পিজিডব্লিউপি-যোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে আট মাস মেয়াদি একটি কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কোর্স শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে এবং স্টাডি পারমিটের মেয়াদ থাকতেই আবেদন করতে হয়। পিজিডব্লিউপির মেয়াদ মূলত কোর্সের ধরন ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বসেরার তালিকায় রয়েছে। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং ২০২৬ অনুযায়ী, ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় (২৭তম), টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় (২৯তম) এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (৪০তম) বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের চাকরির বাজারে সফলতার দিক থেকে নিয়োগকর্তাদের কাছে ৯৯.১ স্কোর অর্জন করেছে, যা দেশটির শিক্ষার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু ২০২৫ সালের ভর্তি কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে, তাই জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।

Share.
Exit mobile version