বেশ কিছু আসনে রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা না করে ‘ঝুলিয়ে’ রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ এর শরিক নেতাদের নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলটির আমির।
তিনি বলেন, “বেশকিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট। কিন্তু রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা করছেন না। ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমরা বুঝছি না কেন। মাঝখানে আবার ওয়েবসাইটে দিয়ে উধাও করে দেওয়া হল। ওনারা একটু আগে একদম প্রথম পর্যায়ের ১০টা, ১২টা ফল দিচ্ছেন।
“আমাদের বুথ ফেরত যে শিট এসেছে সেখানে আমরা দেখেছি, এগিয়ে আছি। কিন্তু এটা নিয়ে লোকালি বিভিন্ন টালবাহানা করা হচ্ছে।”
এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়। একই দিনে গণভোটও হয়।
রাতে ঢাকা-৮ আসনে ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে পাল্টা অভিযোগ নিয়ে সেখানে যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।
এর মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন করে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সবাইকে ঢাকা-৮ আসনে আসার আহ্বান জানান।
এরপরই ফলাফল ঘোষণার মধ্যে ঢাকার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলের আমির।
সাংবাদিকরা জানতে চান, তারা কোনো কারচুপির আশঙ্কা করছেন কি না।
জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “অনেক কিছু তো হয়েছে। কিন্তু এখনি ফাইনালি বলতে চাচ্ছি না। আমরা আগে পুরো ফলটা নিই। তারপরে সব বলব।”
কিছু আসনে ‘ইঁদুর বিড়াল খেলা’ চলছে অভিযোগ করে জামায়াত নেতা বলেন, “ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন। এগুলো সুস্থ ধারার রাজনীতির উদাহরণ না।”
তিনি বলেন, “আমরা আগেই বলেছি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমরা টানাটানি করবো না। এবং পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমরা ফিরে যেতে চাই না। আমরা ইতিবাচক ধারার রাজনীতিতে যেতে চাই। রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয় তাহলে এ কথা মেনে নিতে হবে-পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো নির্বাচনও হয় না, রাজনীতিও হয় না। ”
এসময় জামায়াত আমিরের এক পাশে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আরেক পাশে ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।



