ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগের দিন সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ করল বিএনপি।
বুধবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল সিইসির দেখা করে এই অভিযোগ করেছে।
পরে এক ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, “মেজর কয়েকটা আমাদের খুব অপছন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। যার জন্য আমরা মনে করেছি যে, এটা আমাদের না খালি, সারা দেশের মানুষ অপছন্দ করতেছে। আমরা মনে করেছি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো দরকার, যাতে করে এরকম অপছন্দের কাজ আর না ঘটে।
“এর মধ্যে একটা হল যে আপনারা দেখেছেন, সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে একজন রাজনীতিবিদের কাছে বড় অংকের টাকা পাওয়া গেছে। এটা নিয়ে আপনার অনেক আলোচনা হচ্ছে অনেক কিছু। ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির বিচার তো হবে বিচারের মতই। কিন্তু যে সময়ে ঘটনাটা ঘটছে, এ সময়ে এটা প্রশ্নবোধক হয়ে যায়।”
বুধবার নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ব্যাগ থেকে ‘৭৪ লাখ’ টাকা উদ্ধারের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশের আরও কয়েকটি জায়গায় জামায়াত নেতাকর্মীর কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের খবর এসেছে। ভোটারদের টাকা ছড়ানোর অভিযোগে এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জামায়াত নেতাকে কারাদণ্ডের খবরও এসেছে।
যদিও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঘটনা নিয়ে জামায়াতের মুখপাত্র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একদল লোক বিভিন্ন ধরনের সাজানো ঘটনাগুলো দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সামগ্রিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁও জেলা আমির (বেলাল উদ্দিন প্রধান) ঢাকা থেকে আজ (বুধবার) গিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে নিয়ে একটি সাজানো নাটক করেছেন। তিনি (জেলা আমির) তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, ‘আমার ব্যবসার জন্য আমি যাতায়াত করি। ব্যাংক বন্ধ, আমাকে কিছু লেনদেন করতে হবে।’ এজন্য তার সঙ্গে কিছু নগদ টাকা ছিল।”
সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ঘটনা ছাড়াও লক্ষ্মীপুর, চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, বরগুনার পাথরঘাটা, নোয়াখালী, রাজশাহীর গোদাগারী, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া, কক্সবাজারের রামু এবং বগুড়া কাহালুতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিরুদ্ধে ‘নগদ টাকা বা বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণের’ অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “এরকম বেশকিছু নিউজ ও ভিডিও আমরা নির্বাচন কমিশনের ওনাদের কাছে দিয়েছি। আমরা বলেছি যে আইন অনুযায়ী যার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আপনারা সে ব্যবস্থা নেন।
“আপনারা জনগণকে একটু আশ্বস্ত করেন যে, এই বিষয়টা আপনারা পছন্দ করেন না এবং আর কেউ যেন এইটা না করে। সেটা যে দলেরই হোক যাতে না করে কেউ, সেজন্য আপনারা একটা একটা হুঁশিয়ারি বার্তা আপনাদের তরফ থেকে যাক। কারণ ‘আফটার অল’ মানুষ নির্ভর করছে যে নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
কেউ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


