নড়াইলের এক যুবককে সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাতের পর তাকে বিপদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিমুল শেখের (৩৫) মা পারভীন বেগম গত ২২ অক্টোবর নড়াইল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী গ্রামের জাফর শেখের ছেলে শিমুলকে তার প্রতিবেশী খাইরুল ইসলাম (৩৩) ও শরিফুল ইসলাম (২৮) সৌদি আরবে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বেতনের গাড়চালকের চাকরির প্রস্তাব দেয়। এর বিনিময়ে তারা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। শিমুলের পরিবার মোটরসাইকেল বিক্রি, জমি বন্ধক এবং ধার করে সেই টাকা জোগাড় করে তাদের হাতে তুলে দেয়।

চলতি বছরের মে মাসে শিমুল সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর ভিন্ন চিত্র দেখতে পান। তাকে প্রতিশ্রুত কাজ বা আকামা (কাজের অনুমতি) কিছুই দেওয়া হয়নি। উল্টো লাইসেন্স করার কথা বলে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিমুল। সেই টাকা দিতে না পারায় এখন দেশটিতে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

ভিডিও কলে শিমুল শেখ জানান, “আমাকে বলা হয়েছিল কোম্পানির গাড়ি চালাতে হবে। এখন আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি, গতকাল পুলিশের ধাওয়া খেয়েছি। ঠিকমতো খেতেও পারছি না।”

তার মা পারভীন বেগম বলেন, “টাকা দিতে না পারায় আমার ছেলেকে আটকে রেখে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে সে সেখান থেকে পালায়। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের একজন শরিফুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, শিমুলকে গাড়ি চালানোর কাজ দেওয়া হলেও তিনি ড্রাইভিংয়ে অদক্ষ ছিলেন। পরে তাকে অন্য কোম্পানিতে কাজ দেওয়া হলে সেখান থেকে তিনি পালিয়ে যান। শরিফুলের দাবি, শিমুলের আকামা করা হয়েছে এবং নতুন করে টাকা চাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। অপর অভিযুক্ত খাইরুল ইসলামকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যশোর পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

Share.
Exit mobile version