ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মাথায় প্রথমবার ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইয়েমেনের হুতিরা।
তেহরানঘনিষ্ঠ এ শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি শনিবার জানায়, তারা দখলকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
আল জাজিরা বলছে, ইসরায়েল এর আগে ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার কয়েকদিনের মধ্যেই লেবাননের হিজবুল্লাহ তেহরানের সমর্থনে ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব প্রতিবেশী দেশটিতে নতুন স্থল অভিযানে নামে।
ইরানঘনিষ্ঠ ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক-সামরিক নানা স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এবার তাদের সঙ্গে হুতিরাও যুক্ত হল।
শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটি বলেছে, লেবানন, ইরান, ইরাক ও ফিলিস্তিনে বেসামরিক হত্যা এবং নানান বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের প্রতিক্রিয়ায় তারা ইসরায়েলে এ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
“ঘোষিত সব লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত, প্রতিরোধ অক্ষের সবার বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে,” বলেছে তারা।
এর আগে শনিবার সকালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ ইয়েমেন থেকে তাদের ভূখণ্ডের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানায়।
“ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে আইডিএফ, ওই হুমকি প্রতিহতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে,” শনিবার টেলিগ্রামে এমনটাই বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
এ বিবৃতির ১৫ মিনিট পার হওয়ার আগেই আইডিএফ জানায়, ঝুঁকি কেটে গেছে, সারাদেশের সুরক্ষা কেন্দ্রগুলোতে থাকা লোকজন সেগুলো থেকে বের হয়ে আসতে পারে।
তাদের এ ভাষ্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই হুতিদের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তারাও চলমান যুদ্ধে যোগ দেবে।
এ শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি চাইলে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আটকে দিতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এখন বাব আল-মানদেবও বন্ধ হয়ে গেলে তেলের বাজারে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে হুতিদের ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছিলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও কোনো দেশ যোগ দিলে, ইরান বা কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল লোহিত সাগরকে ব্যবহার করলে কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে হামলার তীব্রতা বাড়লে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের লক্ষ্যে আমাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।”
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান, ফিলিস্তিন ও গাজা, ইরাক ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শত্রুদের ‘অব্যাহত আগ্রাসনের’ প্রতিক্রিয়ায় তারা যুদ্ধে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, বলা হয় তার বিবৃতিতে।

