ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের অভিযান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তেহরান অভিযোগ করেছে, উদ্ধার অভিযানের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র আসলে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলের চেষ্টা করেছে।

গত ৫ এপ্রিল ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিধ্বস্ত একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুঃসাহসিক ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ মিশন।

তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই অভিযান প্রকৃতপক্ষে পাইলট উদ্ধারের জন্য নয়, বরং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, অভিযানের অবস্থান ও তথ্য নিয়ে “অনেক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা” রয়েছে এবং ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি “বিপর্যয়”।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আহত পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের উপযোগী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দ করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি আলোচনা ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম মজুদের বড় অংশ এখনো ইস্পাহান ও নাতাঞ্জের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের বিবরণ অনুযায়ী, এতে এ-১০ থান্ডারবোল্ট, এমসি-১৩০জে কমান্ডো, ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনসহ বড় ধরনের সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হয়। অভিযানের সময় তীব্র গোলাগুলি ও বোমাবর্ষণের মধ্য দিয়ে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করা হয় বলে দাবি ওয়াশিংটনের।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

Share.
Exit mobile version