বাংলাদেশ হাম নিয়েউচ্চ ঝুঁকিতেরয়েছে বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। রোগটির বিস্তার এবং জনস্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ডব্লিউএইচও সরকারকে বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে। ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ‘ন্যাশনাল আইএইচআর ফোকাল পয়েন্ট’ যে তথ্য সরবরাহ করেছে, মূলত তার ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের একাধিক বিভাগে সংক্রমণ ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ টিকা নেয়নি। আবার কেউ কেউ প্রথম ডোজ নিলেও দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আগের অর্থবছরে এমআর টিকার ঘাটতি এবং গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে দেশব্যাপী সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি অনিয়মিত থাকাও ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই শিশু। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে।

এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯০ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৬৬ জন মারা গেছেন।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগের ৫৮টি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।

সংস্থাটি বলেছে, শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলই বর্তমানে ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছে; তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি ‘মাঝারি’ পর্যায়ের।

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে আন্তঃসীমান্ত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হাম মোকাবেলায় দেশের অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে ডব্লিউএইচও। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার, দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করা এবং হাসপাতালে আইসোলেশন ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মী, পর্যটন ও পরিবহন খাতের কর্মীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

Share.
Exit mobile version