বৈধ পর্যটন ভিসা থাকার পরও ইরানের নাগরিকদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে ইরান থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিসার মেয়াদ শেষের পরও দেশে ফিরতে পারবেন না- এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে। এর আওতায় অন্তত ৭ হাজার ২০০ ইরানি পর্যটক পড়ছেন, যাদের কাছে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের জন্য বৈধ ভিজিটর ভিসা রয়েছে।

তবে সব ইরানি নাগরিকের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। কেউ কেউ বিশেষ বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ইরানি বাবা-মায়ের ক্ষেত্রে এই বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, “ইরানে সংঘাত শুরুর আগে অনেক ভিসা দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে হয়ত দেওয়া হত না।”

তিনি জানান, বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর সরকার কড়া নজর রাখছে এবং অভিবাসন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনে এই নিয়ম পরিবর্তন করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তকে ‘বিরাট বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে অস্ট্রেলিয়ার ‘অ্যাসাইলাম সিকার রিসোর্স সেন্টার’।

সংস্থাটির ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ জানা ফাভেরো বলেন, “যখন মানুষের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এবং তাদের দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তখন অস্ট্রেলিয়ার আলবানিজ সরকার ইরানের মানুষের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।”

ইরানি ওমেন’স অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র নোস হোসেইনি এই সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, “দেশের সবাই এখন শোকের মধ্যে এবং প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এমন কোনও ঘোষণা আশা করিনি।”

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস পার্টির সিনেটর ডেভিড শোব্রিজ অভিযোগ করেছেন যে, লেবার পার্টি শরণার্থীদের লক্ষ্য করে নিষ্ঠুর আইন পাস করছে।

পার্লামেন্ট সদস্য জালি স্টেগাল বলেছেন, যারা নিয়ম মেনে ফি দিয়ে ভিসার আবেদন করেছিলেন, তাদের এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটি পুরো অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের আস্থা কমিয়ে দেবে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানি নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

তবে পরে তাদের মধ্যে পাঁচজন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ইরানে ফিরে যান এবং দুইজন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। ওই ঘটনার পর এবার পর্যটন ভিসার ওপর এমন কড়াকড়ি আরোপ করল সরকার।

Share.
Exit mobile version