ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্নআয়ের মানুষের কাছে কম দামে বিক্রির লক্ষ্যে কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কিনছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র (আন্তর্জাতিক) পদ্ধতিতে আমেরিকার পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই তেল কিনতে ১৮১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ৯৩২ টাকা ব্যয় হবে।

এছাড়া স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক লটে ২ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনা হবে।

ঢাকার গুলশানের ইজ সার্ভিসেস লিমিটেড ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ওই পরিমাণ ডাল সরবরাহ করবে।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তেল ও ডাল কেনার এসব প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

পাম অলিন হল পাম ফলের শাঁস থেকে উৎপাদিত পাম অয়েলের একটি তরল ভগ্নাংশ, যা মূলত ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশের ব্যবসায়ীরা সাধারণত মালয়েশিয়া থেকে এ তেল আমদানি করতেন। তবে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর সরকার এখন এই ভোজ্য তেল কিনছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির কাছ থেকে।

বাড়তি সম্পূরক শুল্কের খাঁড়া থেকে বাঁচতে নয় মাসের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই বাণিজ্যচুক্তি করে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে ৯ ফেব্রুয়ারি ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ সই হয়।

এ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ছাড় দেবে; কিন্তু বিনিময়ে তাদের পণ্য আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে তাদের আরও বড় ছাড় দেওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে।

চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ আগামী ৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য (গম, সয়াবিন, তুলা) এবং ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের এলএনজি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ১৪টি বোয়িং কেনারও সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস, পোল্ট্রি, প্রক্রিয়াজাত মাংস, সিলুরিফর্মেস (ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ) এবং ডিমের মত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরি করা হবে না বলেও চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ, যা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন পোল্ট্রি শিল্পের দেশি উদ্যোক্তারা।

বাণিজ্য ছাপিয়ে ওই চুক্তিতে রাজনৈতিক উপাদানও যুক্ত হয়েছে। একটি শর্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে কী আমদানি করবে বা করবে না সেক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২৫০০ ধরনের বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, কাঠ ও কাঠজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য। অন্যদিকে ৭ হাজার ১৩২টি ট্যারিফ লাইন বা এইচএস কোডে মার্কিন পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

এর মধ্যে ৪ হাজার ৯২২টি ট্যারিফ লাইনের পণ্য চুক্তি সইয়ের দিন থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। ১ হাজার ৫৩৮টি ট্যারিফ লাইনের পণ্যের শুল্কহার ৫ বছরের মধ্যে শূন্য করা হবে এবং ৬৭২টির শুল্কহার ১০ বছরের মধ্যে শূন্য করা হবে।

Share.
Exit mobile version