উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম আবারও বড় পরিমাণে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি।
অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে। তাতে লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা।
আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ০ দশমিক ৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারে বেড়েছে ৭১ টাকার বেশি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে, জেট ফুয়েলের নতুন দর মঙ্গলবার রাত থেকে কার্যকর হবে।
ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এ মাসেই দুই দফা সমন্বয় করা হল জেট ফুয়েলের দাম।
৮ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে মার্চ মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক রুটে তখন ০ দশমিক ৬২ ডলার থেকে বাড়িয়ে ০ দশমিক ৭৩৮৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিইআরসি তখন বলেছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটসের গড় দর, ডলার বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় সেই সমন্বয় করা হয়েছে।
এরপর ১৯ মার্চ আবার নতুন করে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েও তা রাতেই স্থগিত করেছিল কমিশন। পাঁচ দিনের মাথায় আরও বেশি মূল্যহার নির্ধারণ করা হল।
নতুন হারে অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম মার্চের শুরুতে নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক রুটেও বৃদ্ধির হার কাছাকাছি।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং এশিয়ায় জেট ফুয়েলের বাজার অস্থির হয়ে পড়ায় দামে ঊর্ধ্বগতি তৈরি হয়েছে।রয়টার্স জানিয়েছে, এশিয়ায় জেট ফুয়েলের দর ব্যারেলপ্রতি ১৬৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে এর আগেও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তেল সরবরাহ নিয়েও সরকারকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে জেট ফুয়েলের নতুন দাম উড়োজাহাজের পরিচালন ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
জেট ফুয়েলের দামের এ উল্লম্ফনের প্রভাব প্রথমে পড়তে পারে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে। কারণ স্থানীয় রুটে জ্বালানি ব্যয় এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন খরচের বড় একটি অংশ। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও জ্বালানির খরচ বাড়বে, যদিও সেখানে মূল্য নির্ধারণে অন্যান্য বাণিজ্যিক উপাদান কাজ করে।

