মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা—ইরানের কঠোর অবস্থান, হরমুজ প্রণালী বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় এক বড় মাপের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তীব্রতর হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস (Axios) দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি “বিশাল ও কয়েক সপ্তাহব্যাপী” সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোয়াইট হাউস সূত্রমতে, এই হামলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। এটি গত বছরের (জুন ২০২৫) ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও অনেক বড় এবং বিধ্বংসী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও হরমজ প্রণালী: মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে ইরানও তাদের শক্তি প্রদর্শন করছে। তেহরান ইতিমধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সাময়িকভাবে বন্ধ করে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (IRGC) জানিয়েছে, তারা সমুদ্রপথে যেকোনো আগ্রাসন রুখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

রাশিয়া ও চীনের সাথে যৌথ মহড়া: পরিস্থিতির মোড় আরও নাটকীয় হয়েছে যখন রাশিয়া এবং চীনের যুদ্ধজাহাজ ইরানের সাথে যৌথ মহড়ায় যোগ দিতে ওমান সাগরে এসে পৌঁছেছে। “মেরিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট ২০২৬” নামক এই মহড়া স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ইরান এই সংকটে একা নয়। রাশিয়ার হেলিকপ্টারবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দর আব্বাসে নোঙর করেছে। মস্কো ও বেইজিংয়ের এই উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে এক কড়া বার্তা দিচ্ছে।

কূটনৈতিক ব্যর্থতা: জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানালেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এর বদলে ইরান তাদের জব্দ করা ৬ বিলিয়ন ডলার অর্থ ফেরত চায়।

সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক সপ্তাহ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত সংকটময়। যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ব এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে।

Share.
Exit mobile version