যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুদ্ধ থামাতে হলে আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘নতজানু’ হতে হবে।
মঙ্গলবার এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে পাঠানো উত্তেজনা হ্রাস বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরান নাকচ করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি তার প্রথম পররাষ্ট্রনীতি বৈঠকেই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।
তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতজানু না হওয়া, পরাজয় মেনে না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তির জন্য এটি সঠিক সময় নয়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছিল। তবে কোন দেশ এ প্রস্তাব দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মুজতাবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট বৈঠকে তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এরই মধ্যে সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, এবং পরিস্থিতি থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনও কার্যত অচল রয়েছে। এই নৌপথ সচল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চাইলেও তারা সাড়া দেয়নি। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে।
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মুজতাবা খামেনি বলেন, “ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা উচিত।”
এদিকে, গত ১৪ মার্চ রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর উদ্যোগে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ট্রাম্প প্রশাসনও প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: রয়টার্স



