গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে ২০-দফা সম্বলিত একটি নতুন শান্তি পরিকল্পনা সামনে এসেছে, যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে প্রণীত বলে জানা গেছে। প্রস্তাবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসকে বাদ দিয়ে একটি নতুন আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সরকার ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।

যদিও ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই আলোচনার জন্য প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য নিরসনে মিশরে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে।

চুক্তির প্রধান শর্তাবলি

পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি: চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই সকল প্রকার সংঘাত বন্ধ হবে।
  • জিম্মি ও বন্দী বিনিময়: হামাস ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের হাতে থাকা ৪৮ জন জিম্মিকে—জীবিত বা মৃত—মুক্তি দেবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং যুদ্ধ শুরুর পর আটক হওয়া আরও ১,৭০০ জনকে মুক্তি দেবে। এছাড়া, প্রতিটি মৃত ইসরায়েলি জিম্মির লাশের বিনিময়ে ১৫ জন ফিলিস্তিনির লাশ ফেরত দেওয়া হবে।
  • মানবিক সহায়তা: জাতিসংঘ ও রেড ক্রিসেন্টের মতো নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে গাজায় বড় আকারে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নিরাপত্তা

এই পরিকল্পনায় গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা থেকে হামাসকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে:

  • অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন: ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গাজার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
  • আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান: এই কমিটিকে তত্ত্বাবধান এবং পুনর্গঠন তহবিল পরিচালনার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে একটি আন্তর্জাতিক “বোর্ড অব পিস” গঠন করা হবে। 영국의 সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। সংস্কারকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এই বোর্ড দায়িত্ব পালন করবে।
  • নিরস্ত্রীকরণ ও নিরাপত্তা বাহিনী: প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে এবং তাদের টানেলসহ সকল সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব মিত্রদের নিয়ে একটি “আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী” (ISF) মোতায়েন করা হবে।

প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিকল্পনাকে সতর্কতার সাথে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে গুরুতর মতপার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েল জিম্মি মুক্তির প্রথম পর্ব বাস্তবায়নে আগ্রহী হলেও, গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। অন্যদিকে, হামাস জিম্মি মুক্তি ও প্রশাসন হস্তান্তরে রাজি হলেও, তাদের নিরস্ত্রকরণ এবং সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছে।

এই মতপার্থক্যগুলো দূর করার লক্ষ্যে মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় কায়রোতে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে।

Share.
Exit mobile version