আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচনে জয়ী হয়ে দলীয় সরকারের বিষয়েও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
দেড় দশকের বেশি সময় ধরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপন করা তারেক রহমান বলেন, “আমি মনে করি, আমার বাংলাদেশে ফেরার সময় খুব সন্নিকটে।”
সাক্ষাৎকারে তিনি ভবিষ্যৎ সরকারের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, তার সরকার তৈরি পোশাক খাতের বাইরে দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার উদ্যোগ নেবে এবং আমাজন ও আলিবাবার মতো ই-কমার্স জায়ান্টদের জন্য বাংলাদেশকে একটি ‘সরবরাহ কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘একপাক্ষিক’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ‘বাংলাদেশ সবার আগে’—এই নীতিতে একটি নতুন সূচনা করার কথা জানান।
প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, তার সরকার এই ধারা ভেঙে দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের আগস্ট থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য দলের প্রায় সাত হাজার সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “যদি তারা অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ কীভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে?”
তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে তার সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরু করা দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস তাদের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী মত দমন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে, বিএনপির সর্বশেষ শাসনামলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের টানা পাঁচবার শীর্ষস্থানে থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

