ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে একটি ২০-দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য রোববার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ের মধ্যে চুক্তি মানা না হলে গোষ্ঠীটির ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একইসঙ্গে গাজার সাধারণ মানুষকে উপত্যকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যদিও নির্দিষ্ট কোনো স্থানের কথা তিনি উল্লেখ করেননি।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই আল্টিমেটাম দেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন সময় রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হামাসকে অবশ্যই এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে গত সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্প এই ২০ দফার প্রস্তাবটি ঘোষণা করেছিলেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাসকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে এবং সমস্ত অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান ইজ আল-দ্বীন হাদ্দাদ অসম্মতি জানিয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে কাতারে অবস্থানরত হামাস নেতারা শর্তসাপেক্ষে চুক্তিটি বিবেচনার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প হামাসের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এরই মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি হামাস “সৈন্য” নিহত হয়েছে এবং বাকিরা সামরিকভাবে অবরুদ্ধ। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “এখন শুধু আমার “হ্যাঁ” বলার অপেক্ষা, আর মুহূর্তেই হামাসের বাকি যোদ্ধাদের জীবন নিভে যাবে। আর বাকি যারা, আমরা জানি আপনারা কোথায় আছেন এবং কে আপনারা, আপনাদের খুঁজে বের করা হবে এবং হত্যা করা হবে।”

ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে হামাসের জন্য ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “সৌভাগ্যবশত হামাস একটি শেষ সুযোগ পেতে যাচ্ছে! মধ্যপ্রাচ্যের এবং এর আশেপাশের অঞ্চলের শক্তিশালী, ক্ষমতাধর এবং অত্যন্ত ধনী জাতিগুলো, একসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে, ইসরায়েলের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০০ বছরের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে।”

তিনি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই শেষ সুযোগের চুক্তি যদি না হয়, তাহলে হামাসের বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ নরক নেমে আসবে যা কেউ আগে দেখেনি। যেকোনো মূল্যেই হোক, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবেই।”

Share.
Exit mobile version