ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে এক বন্য হাতির আক্রমণে দিনে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাতিটি এখনও ধরা পড়েনি।

ওয়েস্ট সিংভূম জেলার চাইবাসা ও কোলহান বনাঞ্চলে ১ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে এই ২০ জন নিহত হয়েছে, এই বনাঞ্চলগুলো এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শালবনের অংশ।

ওই অঞ্চলে মানুষ-হাতি সংঘাতের খবর অনেক বছর ধরেই পাওয়া যাচ্ছে। এর পেছনে বনভূমি হ্রাস, হাতির আবাসস্থল কমে আসা ও হাতির চলাচলের পথে মানুষের ক্রমবর্ধমান কাজকর্মকে গবেষক ও কর্মকর্তারা দায়ী করছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বন্য হাতিটিকে ধরতে শতাধিক বনকর্মীকে নিয়ে বিস্তৃত অনুসন্ধান অভিযান চলছে।

“নজিরবিহীন এক পরিস্থিতি। এবারই প্রথম এ অঞ্চলে একটি মাত্র পুরুষ হাতির সঙ্গে এতজনের মৃত্যুর সংশ্লিষ্টতা মিলল,” বলেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কুলদীপ মীনা।

জানমালের আর ক্ষতি যেন না হয় তা নিশ্চিতে পুরো এলাকাজুড়ে ‘উচ্চ সতর্কাবস্থা’ জারি করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মীনা জানান, হাতিটির সন্ধান পাওয়া, ধরা এবং সেটিকে নিরাপদে বনের ভেতরে ফেরত পাঠানোই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

নিহত ২০ জনের মধ্যে একজন বনকর্মীও আছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কুমার।

কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।

ওই বন্য হাতির তাণ্ডবে মৃত্যুর বেশিরভাগই ঘটেছে রাতে, সেসময় বাসিন্দারা ক্ষেতে জমা করে রাখা বা গুদামে রাখা ধান পাহারা দিচ্ছিলেন; এই চিত্র ভারতের গ্রামগুলোতে খুবই সাধারণ।

নিহতদের একজন, ৩৪ বছর বয়সী মঙ্গল সিং হেমব্রম আক্রান্ত হয়েছিলেন বোদিজারি গ্রামে তার বাড়ির কাছে, সেসময় তিনি কাজ থেকে ফিরছিলেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বীরসিং হাতু গ্রামের ৬২ বছর বয়সী উর্দুব বাহোদা নিহত হয়েছেন নিজের ক্ষেত দেখতে গিয়ে, বলছে তার পরিবার। ওই একই রাতে পার্শ্ববর্তী গ্রামের ৪২ বছর বয়সী বিষ্ণু সুন্দি বাড়ির বাইরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হাতি তাকে পিষে মারে, বলছে তার ছেলে।

অন্য এক ঘটনায়, গত ৫ জানুয়ারি কুন্দ্র বাহোদা ও তার ৬ ও ৮ বছর বয়সী দুই সন্তান হাতির আক্রমণে মারা যায়। কুন্দ্র’র স্ত্রী পুন্দি জানান, তিনি তার দুই বছর বয়সী আহত মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, ফিরে এসে স্বামী ও দুই সন্তানকে মৃত দেখতে পান।

বন কর্মকর্তারা বলছেন, হাতিটি অল্পবয়সী, চঞ্চল এবং ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করে, বিশেষ করে রাতে, যে কারণে সেটিকে খুঁজে বের করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাসিন্দাদের সতর্ক করতে বিভিন্ন দল ঐতিহ্যবাহী ঢোলের শব্দ করছে; লোকজনকে বাড়ির বাইরে না যেতে বা রাতে ঘরের বাইরে না ঘুমাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মীনা বলছেন, হাতিটির প্রজননকাল চলতে পারে বলে প্রাথমিক পর্যালোচনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে টেস্টোস্টেরোনের মাত্রা বাড়ায় পুরুষ হাতিগুলো মারাত্মক আগ্রাসী হয়ে ওঠে।

সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিনের ভেতর এই পরিস্থিতি কেটে যায়, বলছেন কর্মকর্তারা।

হাতিটি হয়তো তার পাল থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যে কারণে সেটিকে খুঁজে বের করে বনে থাকা অন্য হাতিদের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে, বলেছেন তারা।

Share.
Exit mobile version