ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ প্রায় হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ইরানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন।

এর মধ্য দিয়ে ইরান কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ দমনাভিযানে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির বিষয়টি স্বীকার করল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী।

তবে নিহতদের মধ্যে কয়জন সাধারণ নাগরিক আর কয়জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে ভেঙে কিছু বলেননি তিনি।

গত ২৮ ডিসেম্বর, রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে ছোট ছোট বিক্ষোভ থেকেই ইরানে বিক্ষোভের শুরু। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের দরপতন- সব মিলিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণ জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামতে থাকে লাগাতার।

গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহ এর ছেলে রেজা পাহলভির সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদের ডাকের পরই রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। একাধিক মানবাধিকার গোষ্ঠীও বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির তথ্য জানায়।

রোববার যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ ইরানের বিক্ষোভে ৫৪৪ জন নিহতের খবর জানিয়েছিল। তাছাড়া, এই সময়ে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তারও হয়েছে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।

পরদিন সোমবার নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪৮ জনে দাঁড়ানোর খবর জানায় নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআরএনজিও)।

তবে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তথ্যের প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার কারণে হতাহতর সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হচ্ছিল। ইরান সরকারও এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

তবে তেহরানের মর্গগুলোর ভিডিওতে লাশের স্তুপের দৃশ্য বলে দিচ্ছিল দেশটিতে বিক্ষোভ কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। অবশেষে ইরানের সরকারি কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা জানালেন।

Share.
Exit mobile version