ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।

২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

নরওয়েভিত্তিক কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেনগাও একথা জানিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় হেনগাও জানায়, এরফানের আত্মীয়দের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যমতে, আপাতত তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখা হয়েছে।

তাছাড়া, বৃহস্পতিবার ইরানের বিচার বিভাগ এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথাও অস্বীকার করেছে। বিচার বিভাগ বলছে, সোলতানির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো নিরাপত্তাসংক্রান্ত এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড নয়।

এরফান সুলতানি রাজধানী তেহরানের কাছে কারাজ শহরের ফারদিস এলাকার বাসিন্দা। সেখানে তিনি একটি পোশাকের দোকানের মালিক। গত ৮ জানুয়ারি নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী।

পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিনের মধ্যে কোনও আইনজীবী ছাড়াই তার বিচার সম্পন্ন করা হয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সুলতানির বোন একজন লাইসেন্সধারী আইনজীবী হওয়ার পরও তাকে ভাইয়ের মামলা লড়তে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চলমান বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে এরফান সুলতানিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর আসে।

তার জীবন বাঁচাতে সরব হয় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থা। সোলতানির এক আত্মীয় বিবিসি ফারসি-কে বলেন, “এরফান কেবল তার মতপ্রকাশের জন্য মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এটি পুরো আন্দোলন দমন করার একটি কৌশল মাত্র।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত পদক্ষেপ’ নেবে।

তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, “যতক্ষণ না এই কাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল।

ইরানের বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো সোলতানির খবর নিয়ে ‘জালিয়াতি’ করছে। তাদের দাবি, সুলতানিকে কেবল প্রচারমূলক কার্যক্রম ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটক রাখা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ সাজা কেবল জেল।

ইরানে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বর্তমানে দেশটির ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এ পর্যন্ত প্রায় ২,৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করছে।

Share.
Exit mobile version