শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ফেসবুক পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক | টরন্টো

কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে এক বিশাল চমক দিয়ে অন্টারিও নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (NDP) শীর্ষ নেতা ও জনপ্রিয় এমপিপি ডলি বেগম ফেডারেল লিবারেল পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে লিবারেল পার্টি অব কানাডার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনের আসন্ন ফেডারেল উপ-নির্বাচনে ডলি বেগম প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল দলের হয়ে লড়বেন। একই আসনে কনজারভেটিভ পার্টির মনোনয়ন পেতে পারেন আরেক বাংলাদেশী জনপ্রিয় মুখ ডা. এ এস এম নুরুল্লাহ তরুণ।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিবিদের হাত ধরে কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে, যা দেশজুড়ে অভিবাসী কমিউনিটির মাঝে বইয়ে দিচ্ছে আনন্দের হাওয়া।

ব্লেয়ারের বিদায় ও ডলির আগমন

গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্কারবরো সাউথওয়েস্টের দীর্ঘদিনের এমপি এবং কানাডার সাবেক পুলিশ প্রধান বিল ব্লেয়ারের রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তিনি যুক্তরাজ্যে কানাডার পরবর্তী হাই কমিশনার হিসেবে নতুন কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। ব্লেয়ারের এই বিদায়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় ডলি বেগমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে লিবারেল পার্টি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি লিবারেলদের জন্য এক বড় ধরনের কৌশলগত বিজয়।

কেন এই দলবদল?

ডলি বেগম তাঁর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:

“আমি গত সাত বছর ধরে স্কারবরো সাউথওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমার মনে হয়েছে, আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে আমি সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।”

তিনি আরও জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করাই হবে ফেডারেল পর্যায়ে তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ইতিহাসের পথে মৌলভীবাজারের মেয়ে

মৌলভীবাজারের মনুনদী পাড় থেকে আসা ডলি বেগম ২০১৮ সালে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। কুইন্স পার্কে তিনি কেবল একজন আইনপ্রণেতা ছিলেন না, বরং এনডিপির ডেপুটি লিডার হিসেবে বিরোধী দলের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠস্বর ছিলেন। টানা তিনটি নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর যোগসূত্র কতটা গভীর।

এক নতুন প্রত্যাশার সূর্যোদয়

লিবারেল পার্টি অব কানাডার প্রেসিডেন্ট সাচিত মেহরা ডলি বেগমের প্রশংসা করে বলেন, “তাঁর জনসেবার রেকর্ড অতুলনীয়। তিনি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক।”

স্কারবরো সাউথওয়েস্ট এলাকাটি বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের আবাসস্থল। ফলে ডলি বেগমের এই মনোনয়ন ওই এলাকার ভোটারদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। অভিবাসীরা এখন অটোয়ার পার্লামেন্ট হিলে তাঁদের প্রিয় নেত্রীর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শোনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। কুইন্স পার্ক থেকে অটোয়ার পার্লামেন্ট হিলের পথে ডলি বেগমের এই ঐতিহাসিক যাত্রা কেবল একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক উত্তরণ নয়, বরং এটি কানাডায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের এক অনন্য মাইলফলক। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

Share.
Exit mobile version