জামাত ইস্যুতে এনসিপি ছেড়ে একদিনে ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর নিলেন।

ভোটের আগে যেভাবে ভোট-ই হয়ে গেলো তাসনিম জারার। দলছাড়া স্বতন্ত্র নির্বাচনে দাঁড়াতে ভোটারের যে স্বাক্ষর দরকার তা জোগাড়ের গল্প-ই ইতিহাস হয়ে রইলো। কমিশনের হিসেবে দরকার ছিলো ৪,৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর। হাতে সময় ছিলো মাত্র একদিন। তার পরের ২৪ ঘন্টার গল্ল্পগুলো এমন।

‘স্বাক্ষর করতে এই প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে ‍কেউ এসেছে। কেউ ভোরে, গভীর রাতে, কর্মদিবসে স্বাক্ষর করতে আসেন। কেউ বাবা-মা, ভাই-বোন, কাজিন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে এসেছে। কেউ নিজে স্বাক্ষর করেছে, অন্যদের স্বাক্ষর করতে বলেছে।’

‘কলেজের ছেলেমেয়েরা হঠাৎ স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে। শেষ এক ঘণ্টায় তারা ৫০টি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। মামা আমাদের গল্প শুনে আরও ১০টি সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। দেখি কিছু করতে পারি কি না।’

কীভাবে এসব স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে জারা বলেন, ‘মা-মেয়ে একসঙ্গে ঘুরে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। তারা ফরম নিয়ে মহল্লা ঘুরে ঘুরে স্বাক্ষর করেছে। পুরনো বন্ধু, সহকর্মীরাও কাজে যোগ দেয়। আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব কিনা, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু কখনো হাল ছাড়বো না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণার পর দলের যুগ্ম সদস্যসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা। ঢাকা–৯ আসনে এনসিপি থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া চিকিৎসক তাসনিম জারা পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দেন। এর জন্য তাঁর প্রয়োজন হয় নির্বাচনী আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর। সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর। এই স্বাক্ষরের সাথে যুক্ত একজন তরুণ জানান, জামাতের কারণে এনসিপি ছেড়ে দেয়ায় জারার গ্রহণযোগ্যতা আরো বেড়ে গিয়েছিল। এখন বাকিটা ভোটের দিনের পরিবেশ বলে দেবে।

স্বাক্ষর সংগ্রহের মাঠে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জারা জানালেন, শুধু এভাবে স্বাক্ষর করে এই তরুণ-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধরা চলে যাননি। কানে কানে বলে গেছেন, ‘কখনো পিছু হটবে না। আমরা আছি। আমরা থাকবো তোমার সাথে’

জারা তাই হয়তো ফেসবুকে লিখলেন, ‘উই হ্যাভ মেইড ইট’।

Share.
Exit mobile version