খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক সহিংসতায় ‘ভারত বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন’ রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ২০১২ সালে রামুতে বৌদ্ধবিহারে হামলার পর তৎকালীন সরকারের প্রতিক্রিয়ার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই এ ধরনের মন্তব্য করা পুরোনো ‘ছাঁচ বা মডেলের’ পুনরাবৃত্তি।
সোমবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আনু মুহাম্মদ এই কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ২০১২ সালের ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময় রামুতে হামলার পর বলা হয়েছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটি ঘটানো হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ওই হামলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই জড়িত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একের পর এক ব্যর্থতার কারণে এক ব্যক্তির পদত্যাগের দাবি উঠলেও তিনি বসে আছেন… কোনো তদন্ত ছাড়াই খাগড়াছড়ির ঘটনায় ভারতের চক্রান্ত দেখছেন। এটা ২০১২ সালে রামুর ঘটনার পর আওয়ামী লীগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।”
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষ বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার চায়। সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে এবং কাদের স্বার্থে অশান্তি টিকিয়ে রাখা হচ্ছে তা জানতে পাহাড় ও তার জমি কাদের দখলে রয়েছে, তার একটি তালিকা প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কালক্রম: রামুসহ সারা দেশে বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের ১৩ বছর এবং গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

