মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে ইরানের খার্ক দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের পরিকল্পনায় বিশেষ বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত পদাতিক সেনা ব্যবহারের বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে কি না, কিংবা কোন কৌশল নেওয়া হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য স্থল অভিযান হলেও তা সীমিত পরিসরে হতে পারে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয়। অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে খার্ক দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলো বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা রাখে এমন অস্ত্র খুঁজে বের করে ধ্বংস করার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
খার্ক দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখানে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এ কারণে দ্বীপটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক সূত্রগুলোর ধারণা, অভিযানের লক্ষ্য অর্জনে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সাবেক এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পনাটি নতুন নয়—এর মহড়াও আগেই হয়েছে। তবে কোনো এলাকা দখলের চেয়ে তা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়ে যায়। এরপর ইরান হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, পেন্টাগনের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের জন্য বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত রাখা—এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব না মানলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবি জানিয়েছেন, স্থলবাহিনী ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন করে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেরিন ও নাবিক ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ উপস্থিতির একটি। উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ট্রিপলিতে করে তারা সেখানে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
নৌবহরটিতে পরিবহন ও আক্রমণকারী যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও বিভিন্ন কৌশলগত সরঞ্জাম রয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে সিহক হেলিকপ্টার, অসপ্রে উড়োজাহাজ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও দেখা গেছে, যা সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্ক দ্বীপ বা হরমুজ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে।


