শুধুমাত্র ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, চীনা ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলে বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে কার্যরত প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবল সরবরাহ সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি হবে।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চীনা ভাষা সম্প্রসারণ
চীনা ভাষা শিক্ষা বিস্তারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন
এ ছাড়া চলতি বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়–এ চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
যেসব খাতে মিলতে পারে উচ্চ বেতনের চাকরি
১. মেগা প্রকল্প ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাত
বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে চীনা প্রকৌশলী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, টানেল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বড় সেতু প্রকল্পে টেকনিক্যাল ট্রান্সলেটর বা সমন্বয়কারী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়েই মাসিক বেতন ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
২. আইটি ও ই-কমার্স
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চীনা ভাষা জানা থাকলে বাড়তি অগ্রাধিকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, সফটওয়্যার টেস্টিং ও কাস্টমার রিলেশন বিভাগে দক্ষ জনবল চাহিদা বাড়ছে।
৩. বিজনেস অ্যানালিটিক্স ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট
বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও উৎপাদন খাতে ব্যবহৃত অধিকাংশ কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি করা হয়। সরাসরি চীনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে ভাষাগত দক্ষতার মাধ্যমে যোগাযোগ ও দরকষাকষি করতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য তা কৌশলগত সম্পদে পরিণত হতে পারে।
৪. ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি খাত
বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের কাজে চীনা নাগরিকদের আগমন বাড়ছে। ফলে পাঁচতারকা হোটেল, কর্পোরেট সেবা প্রতিষ্ঠান ও ট্যুর অপারেটরদের কাছে চীনা ভাষায় দক্ষ গাইড ও ইন্টারপ্রেটারের চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ খাতে পার-ডে ভিত্তিতেও উল্লেখযোগ্য আয় সম্ভব।
দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নতুন দিগন্ত
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণ শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আনবে না, বরং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি তরুণদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক হবে। ভাষা দক্ষতাকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে এখন থেকেই পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বৈঠকে।


