ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়বে কিনা, তা সরকার বিবেচনা করবে বলে মন্তব্য করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
তিনি বলেন, “যখন আমরা দেখব যে, যারা রেজিস্ট্রেশন করেছে, তার বড় একটা অংশ রিটার্ন জমা দিয়ে ফেলেছে, তখন আমরা বুঝব যে আমার মোটামুটি পার্টটা শেষ হয়ে গেছে। তো এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে মনে হয়, আরও বড় অংশ, আরও প্রায় ১৫ লাখ অনলাইনে রিটার্ন জমা দেবে।
“সেক্ষেত্রে আমাদের যদি প্রয়োজন হয়, আমরা পরবর্তী সময়ে…হয়তো সরকার বিবেচনা করবে। স্যারের (অর্থ উপদেষ্টা) সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করব।”
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংগঠনের সদস্যদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সহায়তা বুথ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমার হিসাব বলছে, প্রায় ৪২ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। জমা দিয়েছেন ২৬ লাখের বেশি।
“তার মানে, আরও প্রায় ১৫-১৬ লাখ রিটার্ন জমা দেয়নি। তো এটা আগামী এক সপ্তাহে পাওয়াটা হয়তো কঠিন হবে। এখনো প্রতিদিন কিন্তু নতুন নতুন রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজারের বেশি করদাতা রিটার্ন জমা দিতে রেজিস্ট্রেশন করে।”
নভেম্বর মাসের শেষ দিকে এসে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।
এনবিআর তখন বলেছে, ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে। এই সময় ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
বর্তমানে কোনো নথি বা দলিল আপলোড ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া যাচ্ছে; ব্যাংকিং সেবার যেকোনো মাধ্যম বা মোবাইল ফিন্যানসিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে আয়কর পরিশোধ করে সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয় ই-রিটার্ন দাখিলের স্বীকারপত্র পাচ্ছেন করদাতারা।
তিনি বলেন, “কারও ডিপিএসের একটা অ্যাকাউন্ট আছে, কারও সেভিং অ্যাকাউন্ট আছে, কারও ছোট্ট একটা এফডিআর আছে, কারও সঞ্চয়পত্র আছে—সঞ্চয়পত্রে আমরা কানেক্ট করে ফেলেছি। এই যে ধরেন আপনার একাধিক ব্যাংকে হিসাব আছে ওই ব্যাংকে কত টাকা জমা, মুনাফা কত দিল, ট্যাক্স কত কাটল—প্রত্যেক ব্যাংকে গিয়ে গিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে আসা—এই যে যাওয়া আসার ঝামেলা।
“আমরা আপনাদের এই লাইফটা ইজি করে দেব। আমরা কানেক্ট করে দেব ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে আমাদের ই-রিটার্ন। তো আপনি যখন এনআইডি দিবেন, অথবা টিআইএন দিবেন, অটোমেটিকলি আপনি যখন রিটার্ন এন্ট্রি করতে যাবেন, শুধু আপনি দেখবেন।”
এই তথ্য এনবিআরের কর্মকর্তারা দেখতে পাবেন না বলেও তুলে ধরেন।

