যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করার পর প্রতিশোধ গ্রহণের প্রত্যয় জানিয়েছে ইরান, এতে করে ওয়াশিংটন তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের শান্তি আলোচনা হবে কি হবে না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে তার প্রতিনিধিরা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে গিয়ে পৌঁছাবেন।

এর মানে দাঁড়াচ্ছে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার প্রায় একদিন আগেই মার্কিন প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে হাজির হচ্ছেন। ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার ঘোষণার পর থেকে ২১ এপ্রিল দুই সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার কথা, তবে যুদ্ধবিরতি কখন শেষ হবে তার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আর ইরানের সময় অনুযায়ী বুধবার সকালে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা।

রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন; কিন্তু পরে ট্রাম্প জানান, ভ্যান্স যাবেন না। এতে আলোচনা আর এগোবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।

ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ‘যে পর্যন্ত মার্কিন নৌ-অবরোধ বজায় আছে ততক্ষণ’ আলোচনার জন্য পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না ইরান।

এদিকে, আলোচনা হবে এমন প্রত্যাশা নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি করার মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ। তারা ইসলামাবাদ শহরের ভেতর দিয়ে গণপরিবহন ও মালবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম পর্বের আলোচনা যেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, ইসলামাবাদের সেই সেরেনা হোটেলের আশপাশে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ সব অতিথিদের হোটেল ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি নিয়েও সন্দেহ

ইরানি একটি পণ্যবাহী জাহাজ তাদের অবরোধ এড়িয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় মার্কিন নৌবাহিনী সেটি জব্দ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এমনটি জানানোর পর ইরানের সঙ্গে তাদের চলমান যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর থাকবে কি না, এমন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কারণ ইরান তাদের জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর গুলিবর্ষণকে ‘যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’ অভিহিত করে এর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে অথবা বুধবার সকালে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শুরু করার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরান জানিয়েছে, তারা দ্বিতীয় পর্বের শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ বজায় রাখায় ফের প্রণালিটি বন্ধের ঘোষণা দেয় তেহরান।

সব মিলিয়ে সৃষ্ট দোলাচালে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে কি না এবং শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শেষে করতে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ অব্যাহত আছে।

Share.
Exit mobile version