সাংবাদিক আনিস আলমগীর আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশের ‘জননিরাপত্তা বিপন্ন করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ‘মিথ্যা এবং ‘সাজানো নাটক

সাংবাদিক হিসেবে কথা বলা থামাবেন না মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যদি সারা বাংলাদেশকে কারাগার বানাতে চায়, তাহলে তা বানাতে পারেন।”

সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে এ কথা বলে আনিস আলমগীর।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রোববার রাত ৮টার পর জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ আনেন আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে।

ওই মামলার অপর তিন আসামি হলেন- অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।

সোমবার আনিস আলমগীরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান।

আবেদনে বলা হয়, “আনিস আলমগীর এক মাস আগে বেসরকারি টিভির এক টকশোতে মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের অপ্রকাশিত নেতারা সরকারকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। আসামি মেহের আফরোজ শাওন তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এ বছরের ২৬ নভেম্বর লকারের লকার উদ্ধারের ঘটনায় কটাক্ষ করে সরকার বিরোধী পোস্ট দেন। তিনি বলেন, একেবারে তেলেসমাতি কারবার।

এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানার জন্য আনিস আলমগীরকে সাত দিনের রিমান্ড নেওয়ার আর্জি জানানো হয় আবেদনে।

কথা বলতে আদালতের অনুমতি চান আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, “আমি একজন সাংবাদিক, ইরাকের যুদ্ধের নিউজ কাভার করেছি। এর আগে আফগান যুদ্ধ কাভার করছি। আমাকে তখন তালেবানরা আটক করেছিল। তখন থেকে আমার মৃত্যুভয় চলে যায়।

“দুই যুগ ধরে করে এভাবে সাহস নিয়ে সাংবাদিকতা করে আসছি। খালেদা জিয়ার আমলে কথা বলেছি, আওয়ামী লীগের সময়ে কথা বলে এসেছি। ড. ইউনূসের আমলেও কথা বলেছি, বলে যাব। পরবর্তীতে যারা আসবেন তখনো এভাবেই কথা বলে যাব।”

 শুনানি শেষে আদালত এই সাংবাদিককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

Share.
Exit mobile version