মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান।
ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
শুক্রবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জ্বালানিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইরান সরকারের কাছে বাংলাদেশি তেল ট্যাঙ্কারগুলোর চলাচলের অনুমতি চাওয়ার অনুরোধ এসেছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, তিনি ইতোমধ্যে বিষয়টি ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তারা বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পরিবহনে নিয়োজিত জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদে পার হওয়ার সুযোগ দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, “যদি বাংলাদেশের কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন করতে চায়, তাহলে আমরা সেগুলোকে নিরাপদে যেতে দেব, যাতে বাংলাদেশের মানুষ কোনো সমস্যায় না পড়ে।”
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে না পারায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় এ দেশটি অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্ববাজারে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। এমন হলে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি।
ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনের তেলবাহী ট্যাংকার পার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারতের তেলবাহী জাহাজও একই পথ ব্যবহার করে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় তেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আগাম বন্ধও ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক কুদস কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।



