নিউইয়র্ক নগরের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি ও তার স্ত্রী রমা দুওয়াজি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের বাসভবনে থাকতে শুরু করেছেন।
কুইন্সে অবস্থিত এক কক্ষের (১-বিএইচকে) অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে তারা এখন ম্যানহাটানের কর্মিবহুল বাসভবনে উঠেছেন।
সোমবার জোহরান মামদানি নদী–তীরবর্তী নতুন বাসভবনের লনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কবাসী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নানা মুহূর্তে যেসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, আজ তেমনই একটি রীতির অংশ হতে পেরে রমা ও আমি নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। সেটা হলো, নগরের আরেক অংশে গিয়ে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করা, যেটিকে আমরা এখন আমাদের বাড়ি বলব।’
এই বাড়ি ‘গ্রেসি ম্যানশন’ নামে পরিচিত। ১৯৪২ সালে বাড়িটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের বাসভবন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে নিউইয়র্ক নগরের প্রায় সব মেয়রই অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও এই রাজকীয়, কাস্টার্ড-রঙা বাড়িটিতে ঘুমিয়েছেন।
জোহরানের আগের বাসস্থানের তুলনায় এই ঐতিহাসিক বাড়িটি বিশেষভাবে বিপরীতধর্মী। আগে তিনি এক কক্ষের একটি বাসায় থাকতেন। এ জন্য প্রতি মাসে ভাড়া দিতে হতো ২ হাজার ৩০০ ডলার। সেখানে কোনো ওয়াশার-ড্রায়ার ছিল না। ভাঙা পাইপের কারণে প্রায়ই কক্ষে পানি ঢুকে পড়ত।
জোহরান মামদানি তার শৈশবের বেশির ভাগ সময় ম্যানহাটানে কাটিয়েছেন। সেখানে সেন্ট্রাল পার্কের অপর পাশে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তুকি পাওয়া একটি অ্যাপার্টমেন্টে তিনি থাকতেন। তার বাবা ছিলেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
অন্যদিকে জোহরান মামদানি দম্পতির নতুন বাসভবনটি প্রায় ১১ হাজার বর্গফুট (১ হাজার ২১ বর্গমিটার) জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে রয়েছে ব্যক্তিগত পাচক, সুশোভিত বলরুম এবং ইস্ট রিভারের দিকে মুখ করা একটি বারান্দা।
সোমবারের বক্তব্যে ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি বলেন, মেয়রের বাসভবনে ওঠার বিষয়টি তার একটি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। সে প্রতিশ্রুতিটি ছিল, সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে থাকে, সেভাবেই তার সরকার চলবে। তবে মামদানি বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে মেয়রের বাসভবনে ওঠার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
মেয়র আরও বলেছেন, গ্রেসি ম্যানশনে স্থায়ী হওয়ার পর তিনি এটিকে নিউইয়র্কবাসী, বিশেষ করে যারা সাধারণত এমন জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পান না, তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চান।
নতুন বসবাসস্থল আপার ইস্ট সাইড এলাকায় আগের মতো বহু-সাংস্কৃতিক পরিবেশ পাবেন না জোহরান মামদানি। এটি নগরের অন্যতম অভিজাত এলাকা। এখানকার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অধিবাসী শ্বেতাঙ্গ।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় আইনসভায় কাজ করার সময় জোহরান কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়াতে থাকতেন। এটি একটি বৈচিত্র্যময় ও সাশ্রয়ী এলাকা।
পুরোনো এলাকা ছাড়ার আগে জোহরান একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে এ মেয়র বলেছেন, তিনি সেখানকার চায়ের স্বাদ, স্প্যানিশ–আরবি এবং অন্যান্য ভাষায় প্রাণবন্ত আলোচনা এবং সামুদ্রিক খাবার ও শর্মার সুবাসের অভাব বোধ করবেন।

