যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে ওয়াশিংটন এবং দেশটিতে আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। তিনি দাবি করেন, ইরানে “ফলপ্রসূ সরকার পরিবর্তন” ঘটেছে এবং দুই দেশ বর্তমানে শুল্ক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়েও আলোচনা করছে।

বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে তেহরানকে তিনি ওই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫টি শর্তের অনেকগুলোতেই ইরান সম্মতি দিয়েছে। যদিও তিনি এসব শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল নিয়ে কথা বলছি এবং সামনেও আলোচনা চলবে।”

তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর মাটির নিচে চাপা পড়া ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে অপসারণ করবে।

ট্রাম্প লেখেন, “ইরানে আর কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একসঙ্গে মাটি খুঁড়ে চাপা পড়া পারমাণবিক ধূলিকণা অপসারণ করবে।”

তবে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পরও ইরানের অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামের মজুদ পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতাও এখনো বজায় রেখেছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক চাপের মধ্যেও ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

Share.
Exit mobile version