ভোটার তালিকাভুক্তি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের ডাক নাম ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ।

রোববার এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, এনআইডি কার্ডে ডাক নাম না থাকলেও পরিচয় শনাক্তের সুবিধার্থে জাতীয় তথ্য ভাণ্ডারে নাগরিকদের ডাক নাম রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় অফিসিয়াল নাম একরকম হলেও স্থানীয়ভাবে তারা ডাক নামেই বেশি পরিচিত। আবার কারও কারও এনআইডি ডাক নামে হয়ে গেছে, পরে এসে তারা অফিসিয়াল নাম যুক্ত করতে চান। এ ধরনের জটিলতা এড়াতেই নিবন্ধন ফরমে ডাক নাম যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

হুমায়ুন কবীর বলেন, “এনআইডিতে ডাক নাম রাখার কথা আগে ভাবিনি। তবে ডেটাবেজে যেন ডাক নাম থাকে, সে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে কাউকে সহজে শনাক্ত করা যাবে।”

বর্তমানে দেশে প্রায় পৌনে ১২ কোটি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত। পাশাপাশি ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদেরও এনআইডি সেবা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এনআইডি সেবা পেতে নাগরিকদের নিবন্ধন ফরম-২ পূরণ করতে হয়, যেখানে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি তথ্য দিতে হয়।

সংশোধন যাচাই ফি বাড়ানোর চিন্তা

এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন ও তথ্য যাচাইয়ের ফি বাড়ানোর বিষয়েও ভাবছে নির্বাচন কমিশন।

এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে এনআইডি সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফি রয়েছে। তবে কেউ যদি বারবার তথ্য সংশোধনের আবেদন করেন, তাহলে ধাপে ধাপে ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “একই ব্যক্তি যদি বারবার সংশোধনের আবেদন করেন, সেটি সমীচীন নয়। তাই সবাই যেন সতর্ক হয় এবং প্রয়োজন ছাড়া বারবার আবেদন না করে, সে জন্য ফি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।”

তবে কত টাকা ফি নির্ধারণ হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে এনআইডি সেবা চালুর পর থেকে ১৮৬টির বেশি সংস্থার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চুক্তি রয়েছে। এসব সংস্থা নাগরিকদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফি দিয়ে থাকে। বর্তমানে প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ের জন্য ২ টাকা ফি নেওয়া হয়, যা বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

Share.
Exit mobile version