বিএনপির ইশতেহারের নানা প্রতিশ্রুতি

“আমরা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ইশতেহার দিয়েছি”—এমন দৃপ্ত কণ্ঠে ১৭ বছর পর সশরীরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বিকেলে হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ৫১ দফা রোডম্যাপ উন্মোচন করেন। এ সময় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহারের শীর্ষ ১০টি চুম্বক অংশ:

১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল: তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “জনগণের ভোটের অধিকার চিরস্থায়ী করতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে আনা হবে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হবে না।”

২. প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য: রাষ্ট্র পরিচালনায় একনায়কত্ব বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হবে। কোনো ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের (১০ বছর) বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

৩. নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা: নারী ক্ষমতায়নে বৈপ্লবিক ঘোষণা—মেয়েরা মাস্টার্স পর্যন্ত বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি পরিবারে নারীর নামে দেওয়া হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

৪. বেকার ভাতা ও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি: শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত ‘বেকার ভাতা’ চালু করা হবে। লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা।

৫. তিনটি বিশেষ কার্ড: দরিদ্রদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স কার্ড। কৃষকদের সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে।

৬. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: দেশের মেধাবী ও বিশিষ্টজনদের নীতিনির্ধারণে সম্পৃক্ত করতে সংসদে ‘উচ্চকক্ষ’ গঠন করা হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে প্রশাসনিক সংস্কার করা হবে।

৭. বাংলাদেশ ফার্স্ট (Bangladesh First): পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে জাতীয় স্বার্থ। সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর হামলা বরদাশত করা হবে না।

৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মর্যাদা: ‘রেইনবো নেশন’ ধারণায় সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সম্মানী বাড়ানো হবে।

৯. ২০ হাজার কিমি খাল খনন: কৃষি বিপ্লবের লক্ষ্যে শহীদ জিয়ার আদর্শে সারা দেশে ২০,০০০ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে।

১০. জুলাই বিপ্লবের বিচার ও সম্মান: ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন এবং আহতদের রাষ্ট্রীয় খরচে উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র।

তারেক রহমানের বিশেষ বার্তা: বক্তব্যের শেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রতিশোধ নয়, আমরা আইনের শাসন কায়েম করতে চাই। কোনো গুম-খুনের পুনরাবৃত্তি এ দেশে আর হতে দেওয়া হবে না।”

Share.
Exit mobile version