পরিসংখ্যান নিয়ে টরন্টো স্টারের প্রতিবেদন।
টরন্টো: ১৮৪০ সালের পর থেকে অর্থাৎ গত ১৮৬ বছরের মধ্যে এমন তুষারপাত আর দেখেনি টরন্টোবাসী। রবিবারের এক তুষারঝড় ওলটপালট করে দিয়েছে গত প্রায় দুই শতাব্দীর সব রেকর্ড। আবহাওয়া দপ্তর নিশ্চিত করেছে, আজকের দিনটি পিয়ারসন বিমানবন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তুষারপাতের দিন হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
রেকর্ড ভাঙা পরিসংখ্যান: রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পিয়ারসন বিমানবন্দরে ৪২ সেন্টিমিটার তুষার জমা হয়েছে। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ৩৮.৯ সেন্টিমিটার। শুধু তাই নয়, জানুয়ারি মাসে এখন পর্যন্ত মোট ৮৪.২ সেন্টিমিটার তুষারপাত হয়েছে, যার অর্ধেকটাই ঝরেছে আজ এক দিনে। এর মাধ্যমে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারির রেকর্ড ভেঙে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসটি টরন্টোর ইতিহাসের সবচেয়ে তুষারময় জানুয়ারি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সর্বকালের রেকর্ড কি ভাঙবে? পরিসংখ্যান বলছে, টরন্টোর ইতিহাসে যেকোনো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ তুষারপাতের রেকর্ডটি ছিল ১৯৫১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেই রেকর্ডটি ভাঙতে আর মাত্র ২.৬ সেন্টিমিটার তুষারপাত প্রয়োজন। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, জানুয়ারির বাকি কয়েকদিনেই হয়তো সেই ১৯৫১ সালের রেকর্ডটি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
সামনে আসছে ‘ভেরি ডিপ উইন্টার’: এনভায়রনমেন্ট কানাডার তীব্র আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মিচ মেরেডিথ জানিয়েছেন, সোমবার কিছুটা বিরতি থাকলেও মঙ্গলবার একটি দুর্বল আবহাওয়া সিস্টেমের কারণে আরও তুষারপাত হতে পারে। তবে আসল দুশ্চিন্তার কারণ হলো কনকনে ঠান্ডা বাতাস। সামনের দিনগুলোতে হাড়কাঁপানো ‘ভেরি ডিপ উইন্টার’ বা ভয়াবহ শীতের পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি। ফেব্রুয়ারিতেও আরও একাধিক তুষারঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।
বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা: ভারী তুষার সরাতে গিয়ে টরন্টোবাসীদের শারীরিক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মেরেডিথ পরামর্শ দিয়েছেন, বাড়ির সামনের ড্রাইভওয়ে বা রাস্তা পরিষ্কারের সময় তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে ধাপে ধাপে কাজ করতে। অতিরিক্ত পরিশ্রমে পেশির ব্যথা থেকে শুরু করে হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

