৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পদের বিপরীতে আট গুণ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করার যে দাবি চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, তা সরাসরি আমলে নিচ্ছে না সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কমিশন জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো অনুপাতে নয়, বরং পরিস্থিতি বিবেচনা করে উত্তীর্ণের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। এদিকে, আগামী রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘পিএসসির বিধিতে এ নিয়ে কিছু উল্লেখও নেই। কমিশন পরিস্থিতি বুঝে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।’
কাট মার্কসের উদাহরণ দিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘কখনো দেখা যায়, কাট মার্কস ০.৫০ বেশি ধরলে ১০ হাজারের জায়গায় ১৮ হাজার হয়ে যাচ্ছে। তখন তো এত প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার অবস্থা থাকে না। সেজন্য কত প্রার্থীকে প্রিলিতে পাস করালে, শূন্যপদ পূরণে কোনো সংকট হবে না, তা বুঝে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।’
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর পিএসসিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে প্রার্থীরা পদের বিপরীতে অন্তত আট গুণ অথবা ন্যূনতম ২০ হাজার জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। তাদের মতে, বিগত কয়েকটি বিসিএসে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং যোগ্য প্রার্থী পেতে সংকট হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া সমীচীন হবে।
স্মারকলিপিতে বিগত কয়েকটি বিসিএসের তথ্য তুলে ধরে তারা দেখান, ৪০তম বিসিএসে প্রায় ১১ গুণ, ৪১তম বিসিএসে প্রায় ১০ গুণ, ৪৩তম বিসিএসে প্রায় ৯ গুণ, ৪৪তম বিসিএসে প্রায় ৮ গুণ এবং ৪৬তম বিসিএসে ৭ গুণের বেশি প্রার্থীকে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ৪৭তম বিসিএসে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট তিন হাজার ৬৮৮টি শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই হিসাবে ৮ গুণ প্রার্থী উত্তীর্ণ করাতে হলে ২৯ হাজার ৫০৪ জনকে সুযোগ দিতে হবে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের ২৫৬টি কেন্দ্রে এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে অংশ নিতে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন আবেদন করেছিলেন।

