অকুতোভয় বীর আলোকচিত্রী শহীদুল আলম ভাইকে জাহাজ থেকে অ*স্ত্রধারী দখলদার বাহিনী ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি প্রতিরোধ করতে এগিয়ে গেলে আমাকে ই স রা য়ে লী সেনারা তুলে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেয়।
গতরাতে এই স্বপ্ন দেখার পরই আমার তীব্র জ্বর আসে। বাসার যত কাঁথা ছিল সবগুলো দিয়ে চেপে ধরার পরও আমি ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। আর নাকি আজেবাজে বকেছি। সকালে জ্বর ছাড়ার পর আমার বৌ বলছে, জ্বরের ঘোরে আমি নাকি শহিদুল ভাইকে মেরে ফেলবে বলে কান্নাকাটি করেছি।
বার বার নাকি বলেছি, ‘তুমি ফেসবুকে পোস্ট দাও, ড. ইউনূসকে জানাও, শহিদুল ভাইকে ধরে নিয়ে গেছে, উনাকে উদ্ধার করতে হবে, নয়লে মেরে ফেলবে।’
ঘুমানোর আগ পর্যন্ত আজকের মানিকমিয়া এভিনিউর প্রটেস্টের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছি, তদারকি করেছি। গাজা নিয়ে একটি ভিডিও বানাতে গিয়ে নৃশংস কিছু ছবিও চোখের সামনে এসেছিল। সবশেষ শহিদুল ভাইয়ের একটা ভিডিও বক্তব্য দেখে ঘুমিয়েছি। বোধয় এই চিত্রগুলো মাথায় গেঁথে গেছে। অন্য নৌযানগুলো আটকের পর থেকে শহিদুল ভাইকেও জায়নবাদীরা ধরে নিয়ে যাবে এমন শঙ্কা আরো আগ থেকে মনে ঘুরছে। তাদের নিয়ে কি করবে সে নিয়ে দুশ্চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, আমার দেহ বাংলাদেশে থাকলেও মন চলে গেছে ফ্লোটিলার জাহাজগুলোতে। সেটাই হয়তো এভাবে বহিপ্রকাশ হলো।
ওষুধ খাওয়ার পর এখন অন্তত মাথা তুলে বসার শক্তিটুকু পেয়েছি। জ্বরও এখন ছেড়েছে। কিন্তু দুশ্চিন্তা ছাড়েনি।
আল্লাহ তুমি শহিদুল আলম ভাই, গ্রেটা থুনবার্গসহ সুমুদ ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকের হেফাজতকারী হও। হেফাজত করো তোমার পবিত্র ভূমি এবং তার অধিবাসীদেরও।
মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরীর ফেসবুক পোস্ট থেকে

