আসন্ন ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আরও চারজন প্রার্থী।
বুধবার সন্ধ্যার পর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা সশরীর এবং টেলিফোনের মাধ্যমে এই সমর্থনের কথা জানান। এর আগে মোরগ প্রতীকের প্রার্থী এনায়েত উল্লাহও তারেক রহমানকে সমর্থন দিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন।
২০১৪ থেকে ২০১৮ সালে মেয়াদে এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনএফ প্রার্থী এস এম আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে সশরীর উপস্থিত হয়ে তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এই মুহূর্তে নির্বাচনে জয়লাভ করাতেই হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। আমি উপলব্ধি করেছি, আমার প্রার্থিতা জাতীয়তাবাদী শক্তির ভোটকেই বিভক্ত করবে। সেই আশঙ্কা থেকেই আমি তারেক রহমানকে সমর্থন দিচ্ছি।’
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, ‘আমরা আর ’৭১-এর আগের অবস্থায় ফেরত যেতে চাই না। দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে আমি আমার সমর্থকদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ডাব প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ—এই স্লোগান সামনে রেখে আমি বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন করছি। আমার যারা সমর্থক আছেন, তারা ধানের শীষে ভোট দিলেই আমাকে ভোট দেওয়া হবে বলে গণ্য হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ধানের শীষের বিকল্প নেই।’
ঢাকার বাইরে থাকায় আনারস প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ রাশেদুল হক এবং আপেল প্রতীকের প্রার্থী মনজুর হুমায়ুন টেলিফোনে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
তারা দুজনেই ভোটারদের আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে বিজয়ী করার অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা–১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক আবদুস সালাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন বস্তিতে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জনসমর্থন না থাকায় তারা অবৈধ পথ অবলম্বন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

