মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেও নতুন বেতন-ভাতা প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজশাহীর পরিবহন শ্রমিকরা। এর ফলে টানা চার দিন ধরে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।

এর আগে রোববার ঢাকায় বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের এক বৈঠকে চালক ও সহকারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে জানানো হয়, রাজশাহী থেকে ডাবল ট্রিপের জন্য চালক ১ হাজার ৭৫০, সুপারভাইজার ৭৫০ ও হেলপার ৬৫০ টাকা পাবেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বা রহনপুর রুটে এই অঙ্ক হবে যথাক্রমে ১ হাজার ৯৫০, ৮০০ ও ৭০০ টাকা। এছাড়া খোরাকি ভাতা ২১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর দুপুর ২টার দিকে উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম ধর্মঘট প্রত্যাহারের কথা জানান।

তবে শ্রমিকরা এই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানান। তারা ‘একতা পরিবহনের’ মতো সুযোগ-সুবিধা দাবি করছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, গাড়ির সব আসনে যাত্রী থাকলে প্রতি ট্রিপে তিনজন যাত্রীর সমপরিমাণ ভাড়া চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে দিতে হবে। দেশ ট্রাভেলসের এক চালকের সহকারী রাহাত বলেন, চালককে প্রতি ট্রিপে ২ হাজার ২০০, সুপারভাইজারকে ১ হাজার ২০০ এবং হেলপারকে ১ হাজার ১০০ টাকা দিতে হবে, নতুবা বর্ধিত বেতনের সঙ্গে অন্তত দুজন যাত্রীর ভাড়া দিতে হবে।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবরে বিকেলে যাত্রীরা কাউন্টারে এসে টিকিট কিনলেও বাস ছাড়েনি। রাজশাহী নগরের শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে গ্রামীণ ট্রাভেলসের একটি বাস যাত্রী তোলার পরও সন্ধ্যা পর্যন্ত গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা তোফায়েল নামের এক যাত্রী বলেন, ‘গাড়ি চলবে না বলে মালপত্র নামিয়ে দিল। এখন ঢাকায় যাব, নাকি আবার ফিরে যাব, বুঝতে পারছি না।’

বিকেল পাঁচটার দিকে উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম দাবি করেন, দাবি মেনে নেওয়া হলেও কয়েকজন শ্রমিক বাস চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলছে,’ এই বলেই তিনি সংযোগ কেটে দেন। উল্লেখ্য, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে যান।

Share.
Exit mobile version