জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে (মানিক) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানির জন্য কারাগার থেকে আনার সময় তার হাতে হাতকড়া, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরানো ছিল।

এদিন আদালতে দুদকের পক্ষ থেকে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তরিকুল ইসলাম ৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় বিচারপতি মানিকের পক্ষে কোনো আইনজীবী বক্তব্য দেননি।

পরে বিচারপতি মানিকের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার মক্কেল তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তিনি বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মানিক অর্থকষ্টে ভুগছেন। মামলা পরিচালনা করার জন্য আইনজীবীকে যে ফিস দিতে হয়, সেটি তিনি দিতে পারছেন না। ইতিমধ্যে তিনি তাঁর ল চেম্বারের সব বই বিক্রি করে দিয়েছেন।”

এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী সাবেক এই বিচারপতিকে সোমবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে আদালত চত্বরে আনা হয়। এরপর দুজন পুলিশ সদস্য তাকে ধরে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যখন তাকে হাজতখানা থেকে দোতলার courtroom-এ নেওয়া হয়, তখন তার দুই হাত পেছনে হাতকড়া দিয়ে বাঁধা ছিল এবং শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট দেখা যায়।

আদালতে আসামির কাঠগড়ায় তোলার পর তার হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দেওয়া হয়। শুনানি শেষে পুনরায় একই নিরাপত্তা সরঞ্জামে তাকে হাজতখানায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

দুপুর ২টার পর হাজতখানা থেকে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীকে বের করা হয়। সেসময় তার পাশাপাশি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকেও হাতকড়া পরানো অবস্থায় দেখা যায়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাদের কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

Share.
Exit mobile version