মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখালেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার এই পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তাদের মতে, ট্রাম্পের গৃহীত বিভিন্ন বৈশ্বিক নীতি এবং পুরস্কারের জন্য চালানো জোরালো তদবির নোবেল কমিটির মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা তাকে এই সম্মানজনক পুরস্কারের দৌড় থেকে পিছিয়ে দিয়েছে।
আগামী ১০ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল কমিটি এবারের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুসারে, এই পুরস্কারটি তাকেই দেওয়া হয়, যিনি জাতিসমূহের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলোর পরিচালক নিনা গ্রেগারের মতে, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড এই আদর্শের পরিপন্থী। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেছেন, পুরোনো বন্ধু ও মিত্রদের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন।”
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নোবেল কমিটির অভ্যন্তরীণ মনোভাবও ট্রাম্পের বিপক্ষে যেতে পারে। কমিটির পাঁচ সদস্যের একজন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পুরস্কারের জন্য চালানো তদবির অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়, কারণ কমিটি স্বাধীনভাবে এবং বাইরের চাপমুক্ত থেকে কাজ করতে পছন্দ করে। এই সুরেই কথা বলেছেন কমিটির উপপ্রধান আসলে তোয়ে। তার মতে, কোনো প্রার্থী অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে তা কমিটিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, “কোনো প্রার্থী খুব জোর দিয়ে চাপ দিলে সেটা আমাদের ভালো লাগে না।”
পুরস্কার বিশেষজ্ঞ অ্যাসলে স্ভিন আরও নির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে ট্রাম্পের অবস্থান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে অযোগ্য প্রমাণ করে।
তবে নিনা গ্রেগার একটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ট্রাম্প যদি ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে ভ্লাদিমির পুতিন বা গাজায় যুদ্ধ থামাতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কার্যকরভাবে চাপ দিতে পারতেন, তবে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভাবা যেত।
অতীতে হেনরি কিসিঞ্জার বা বারাক ওবামার মতো ব্যক্তিত্ব আশ্চর্যজনকভাবে পুরস্কার পেলেও, কমিটির সাবেক সদস্য হেনরিক সাইস একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে কর্তৃত্ববাদী আচরণের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও যারা পুরস্কার পেয়েছেন, তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তা সংশোধনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৯৩ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কার পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্কের কথা উল্লেখ করেন।

