ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বৈশ্বিক движении যোগ দিয়েছে ফ্রান্সসহ আরও ছয়টি দেশ। নিউইয়র্কে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে এই স্বীকৃতির ঘোষণা দেওয়া হয়, যার ফলে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশের সংখ্যা ১৫৭-তে পৌঁছেছে।

ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চারটিই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল। স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে রাশিয়া ও চীন ১৯৮৮ সালেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য এই স্বীকৃতি দেওয়ার পর এবার ফ্রান্সও একই পথে হাঁটল। ফলে নিরাপত্তা পরিষদে এখন ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির বিরোধিতাকারী একমাত্র স্থায়ী সদস্য হিসেবে রইল যুক্তরাষ্ট্র।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতার মধ্যে থাকা সবকিছু করা আমাদের দায়িত্ব।’ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বিশ্বের বাকি দেশগুলোর প্রতি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই উদ্যোগকে সমর্থন করে বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের অধিকার, কোনো পুরস্কার নয়।’

সোমবার ফ্রান্সের পাশাপাশি অ্যান্ডোরা, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা ও মোনাকো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এর ঠিক একদিন আগেই রোববার যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এই দেশগুলোর নেতারাও নিউইয়র্কের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে শুরু হওয়া এই স্বীকৃতি প্রক্রিয়া বর্তমানে বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি দেশের সমর্থন লাভ করেছে। সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন পদক্ষেপকে ‘হামাসকে পুরস্কৃত করা’ বলে অভিহিত করেছেন, যদিও তিনি গাজায় দ্রুত সংঘাত বন্ধের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।

Share.
Exit mobile version