সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা শান্তি চুক্তিতে সম্মত হতে হামাসকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এক চরমপত্র জারি করে হুঁশিয়ারি দেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হামাস চুক্তিতে রাজি না হলে তাদের এমন পরিণতি ভোগ করতে হবে যা ‘আগে কেউ দেখেনি’।\n\nট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসি সময় রবিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হামাসকে এই ‘শেষ সুযোগ’ গ্রহণ করতে বলেছেন। তিনি লিখেছেন, “যদি এই শেষ সুযোগের চুক্তি না হয়, তাহলে হামাসের বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে যা আগে কেউ দেখেনি।” তিনি সব জিম্মিকে, এমনকি মৃতদেরও, অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান এবং গাজার নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপদ্রুত এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।\n\nট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০-দফা পরিকল্পনায় যুদ্ধের সমাপ্তি, জিম্মি মুক্তি এবং গাজার পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে, হামাসকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতের সরকার পরিচালনায় তাদের কোনো ভূমিকা থাকবে না। স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে মাটির ওপরে ও নিচে থাকা হামাসের সমস্ত পরিকাঠামো ধ্বংস করা হবে। চুক্তিতে ৪৮ জন জিম্মির (যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে) মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২৫০ জন এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আটক ১,৭০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।\n\nপরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল ধীরে ধীরে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং আরব মিত্রদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (ISF) নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। পরবর্তীতে একটি সংস্কারকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে এই রূপরেখায় সম্মতি জানিয়েছেন, তবে হামাস কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

Share.
Exit mobile version