গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এক নতুন কূটনৈতিক স্রোত বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান হচ্ছে। ইউরোপের দীর্ঘদিনের মিত্রসহ বিভিন্ন দেশ এই স্বীকৃতি দেওয়ায় ইসরায়েল কূটনৈতিকভাবে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে চলতি বছর পর্যন্ত ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশের বেশি। গাজায় সংঘাত শুরুর পর এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালে নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর দ্বিধা ভাঙার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধারায় যুক্ত হয়েছে বাহামা, ত্রিনিদাদ ও বার্বাডোজের মতো কয়েকটি ক্যারিবীয় দেশও।
কূটনৈতিক এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইসরায়েলের ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের অবস্থানের পরিবর্তন। যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো, যারা কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত ছিল, তারাও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি দিয়েছে। ফ্রান্সও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া স্লোভেনিয়া, মাল্টা ও বেলজিয়ামের মতো দেশগুলোও বিষয়টি বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় চলমান সংঘাত ও এর মানবিক সংকট এই পরিবর্তনের মূল কারণ। ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের একটি কমিশন ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলাও ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
বিশ্বের এই কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলো থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে তাদের এই পদক্ষেপ অন্য দেশগুলোকে দমাতে পারেনি, বরং ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশ্বজনমত আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মিসরসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ ফিলিস্তিনের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ঠেকানোর মতো বিষয়গুলোতে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি এবং ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

