ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃতি প্রদানের ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত এই দেশগুলোর সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিনের জন্য একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্রান্সও শিগগিরই একই পথে হাঁটবে বলে ঘোষণা দেওয়ায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের পাল্লা আরও ভারী হতে যাচ্ছে।
এই স্বীকৃতির প্রতীকি তাৎপর্য ব্যাপক, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের অবস্থানের কারণে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দেশটির মুখ্য ভূমিকা ছিল। এর আগে ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য একটি আবাসভূমি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জাতিসংঘে দেওয়া এক বক্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন, ওই ঘোষণায় ভূখণ্ডের অ-ইহুদি বাসিন্দাদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতিও ছিল, যা বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে এই স্বীকৃতির সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মতো ফোরামে ফিলিস্তিনের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। উল্লেখ্য, আইসিজে-তে এরই মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগের মামলা চলছে। এর পাশাপাশি, স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোতে ফিলিস্তিন তাদের কূটনৈতিক মিশন খুলে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
তবে এই কূটনৈতিক সাফল্য ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য মাঠের বাস্তবতায় তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ল্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সিমন ম্যাবন আল-জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাজ্যের এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক শক্তি বাড়ালেও তা গাজায় ইসরায়েলি হামলা বা পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধ করতে পারবে না। তাঁর মতে, দখলদারি অব্যাহত থাকলে একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা প্রায় অসম্ভব।
ফ্রান্সের স্বীকৃতির পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চারটিরই সমর্থন পাবে ফিলিস্তিন। এর আগে ১৯৮৮ সালে রাশিয়া ও চীন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ফলে স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে কেবল ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রই এই স্বীকৃতির বাইরে থাকবে।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশের স্বীকৃতি পেলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এখনো একটি অমীমাংসিত বাস্তবতা। ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা, রাজধানী কিংবা নিজস্ব সেনাবাহিনী ছাড়াই রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার সংগ্রামে রয়েছে ফিলিস্তিন। তাই নতুন এই স্বীকৃতি দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের আশাকে পুনরুজ্জীবিত করলেও, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখনো এক বড় চ্যালেঞ্জ।

