হলুদ শুধু রান্নার স্বাদ আর রং বাড়ায় না, এর অসাধারণ স্বাস্থ্যগুণের জন্যও পরিচিত। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান শরীরকে নানা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ এটি নানাভাবে গ্রহণ করলেও সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি উপায় হলো হলুদের চা এবং হলুদ মেশানো দুধ। তবে কোনটি কখন পান করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে, তা জেনে রাখা জরুরি।
সকালের জন্য আদর্শ পানীয় হতে পারে হলুদের চা। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন দূর করে ডিটক্স করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। কাঁচা হলুদ বা এর গুঁড়া পানিতে ফুটিয়ে এই চা তৈরি করা হয়, যার সঙ্গে স্বাদ বাড়াতে লেবুর রস, মধু বা গোলমরিচের গুঁড়া মেশানো যেতে পারে। এই পানীয়টি হজমশক্তি বাড়াতে, লিভার পরিষ্কার রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া শরীরের প্রদাহ কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর ভূমিকা রয়েছে। দিনের শুরুতে খালি পেটে পান করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, হলুদ মেশানো দুধ মূলত রাতে ঘুমানোর আগে পান করার জন্য বেশি উপকারী। গরম দুধে এক চিমটি হলুদ, মধু বা গোলমরিচ মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। দুধে থাকা ফ্যাট হলুদের মূল উপাদান কারকিউমিনকে শরীরে সহজে শোষণ করতে সাহায্য করে, যা এর কার্যকারিতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এই পানীয়টি জ্বর-সর্দি-কাশির মতো অসুস্থতা থেকে দ্রুত সেরে উঠতে এবং শরীরের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। রাতে এটি পান করলে শরীর শিথিল হয় এবং গভীর ঘুম হয়।
যাদের দুধে অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের হলুদ-দুধ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য হলুদের চা একটি উত্তম বিকল্প হতে পারে।

