দেহের রক্ত পরিশোধন, বর্জ্য নিষ্কাশন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মতো жизненно важные কাজ করে কিডনি। তবে অনেক সময় কিছু সাধারণ দৈনন্দিন অভ্যাসই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে ধীরে ধীরে ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার ছোট ছোট ভুল দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

কিডনির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে খাদ্যাভ্যাস। খাবারে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহারের ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা কিডনির ফিল্টারিং সিস্টেমের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। একইভাবে, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও মিষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ কিডনির রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এর কর্মক্ষমতা হ্রাস করে। এর পাশাপাশি, অপর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ঠিকমতো বের হতে পারে না, যা কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করা অপরিহার্য।

জীবনযাত্রার অন্যান্য দিকও কিডনির স্বাস্থ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপকে কিডনির অন্যতম প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ ও তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেও শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রদাহের কারণ হতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা ব্যায়ামের অভাবও কিডনির কার্যকারিতা কমাতে পারে। নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম পুরো শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি কিডনিকেও ভালো রাখে।

সুতরাং, কিডনিকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন জীবনে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি বাদ দেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত ঘুম এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

Share.
Exit mobile version