খাবারের স্বাদ বাড়াতে লবণ ও চিনির বহুল ব্যবহার থাকলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলোর অতিরিক্ত গ্রহণ হৃৎপিণ্ড ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে গ্রহণ না করলে এই দুটি উপাদানই শরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠতে পারে।
ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ান খুশবু বর্মার মতে, লবণ ও চিনির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সরাসরি হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেলে সোডিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা দেহে পানি জমতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং যা থেকে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, অতিরিক্ত চিনি দেহে প্রদাহের সৃষ্টি করে, যা রক্তনালী ও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে। চিনিও রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরির মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
হেলথলাইন-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হৃৎপিণ্ডের পাশাপাশি কিডনির জন্যও অতিরিক্ত লবণ ও চিনি সমান ক্ষতিকর। শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে তা পরিশোধনে কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি রোগের কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত লবণের কারণে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বের হয়ে গিয়ে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এছাড়া, লবণাক্ত খাবার বেশি খেলে শরীরে পানি জমে হাত, পা ও গোড়ালি ফুলে যেতে পারে।
একইভাবে, চিনিযুক্ত খাবারে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকায় তা দ্রুত ওজন বাড়ায়। শরীরের বাড়তি ওজন এবং চিনির কারণে সৃষ্ট ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স পরবর্তীতে ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় লবণ ও চিনির পরিমাণ সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

