দৈনন্দিন কাজের ক্লান্তি দূর করতে বা মনোযোগ বাড়াতে অনেকেই কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের ওপর নির্ভর করেন। তবে এই অভ্যাস যখন আসক্তিতে রূপ নেয়, তখন তা শরীরের জন্য বিভিন্ন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে পানিশূন্যতাসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
ক্যাফেইনকে প্রাকৃতিক ডাই-ইউরেটিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার প্রধান কাজ শরীর থেকে পানি বের করে দেওয়া। এটি শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা ও কিডনির কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসে। এই প্রক্রিয়ায় শরীর থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। এছাড়া, শরীরে সোডিয়াম শোষণের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিও বাড়ে।
ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত করলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক সুবিধা পাওয়া যায়। এটি হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় বলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে কফি পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, যারা অনিদ্রা বা অতিরিক্ত উদ্বেগে ভোগেন, তাদের জন্যও ক্যাফেইন ছেড়ে দেওয়া উপকারী হতে পারে। নিয়মিত মেজাজ পরিবর্তন বা খিটখিটে ভাবের সমস্যাও এতে কমে আসে।
বিশেষজ্ঞরা ক্যাফেইন ছাড়ার ক্ষেত্রে ধীরগতির কৌশল অবলম্বনের ওপর জোর দেন। হঠাৎ করে কফি পান পুরোপুরি বন্ধ করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই একেবারে বন্ধ না করে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ কমিয়ে আনা উচিত।
এই প্রক্রিয়ায় বড় কাপের বদলে ছোট কাপে কফি পান করা একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। পাশাপাশি কফির পরিবর্তে ভেষজ চা, হালকা গ্রিন টি বা ডিটক্স ওয়াটারের মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করা উচিত নয়।

