সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন  ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

জামিন চেয়ে তার করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন।

বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দী আছেন সাদ্দাম। গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা এবং তাদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন বিকেলে লাশবাহী গাড়িতে করে দুজনের লাশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। স্ত্রী–সন্তানের মৃত্যুতে সাদ্দামকে কেন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

আগে ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এই মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হওয়ার পর তার জামিন চেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদনটি করা হয়। আবেদনটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ১৮৮ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আকতার রুবি ও মোহাম্মদ ফজলুল করিম মণ্ডল।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ বলেন, সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় প্রথম তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অথচ এজাহারে তার নাম ছিল না। এ মামলায় তার জামিন হয়। এরপর তার নামে আরেকটি মামলা দেওয়া হয়। যখনই জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছায়, তখনই আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এমন ছয়টি মামলায় তার জামিন হয়েছে। জামিনের পর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, এটি হচ্ছে সপ্তম মামলা।

এই মামলা ২০২৫ সালের মার্চে বাগেরহাটে করা হয়েছিল জানিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ বলেন, এই মামলার এজাহারে ৩৮ জনের নাম আছে, সাদ্দামের নাম নেই। অথচ এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় কেন তাকে নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না, সেই রুল দিয়ে হাইকোর্ট সাদ্দামকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

Share.
Exit mobile version